![]() |
| নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকে শ্বশুরবাড়িতে গণধোলাই |
জয়পুরহাট জেলার কালাই উপজেলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের আহ্বায়ক ও কালাই পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর তৌফিকুল ইসলাম তৌহিদকে শ্বশুরবাড়িতে আত্মগোপনে থাকার সময় স্থানীয় জনতা গণধোলাই দিয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে।
ঘটনার বিস্তারিত
সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার দিকে কালাই উপজেলার মাত্রাই ইউনিয়নের বিয়ালা গ্রামে শ্বশুর ফজলে এলাহি তোতার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানান, তৌফিকুল ইসলাম তৌহিদের বিরুদ্ধে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে একাধিক মামলা রয়েছে। তিনি কালাই পৌরসভার পূর্বপাড়া মহল্লার বাসিন্দা মোতালেব হোসেনের ছেলে।
কীভাবে ধরা পড়লেন?
গোপন সূত্রে খবর পেয়ে স্থানীয়রা তার শ্বশুরবাড়িতে অবস্থান নিশ্চিত করে সেখানে অভিযান চালান। তাকে ঘিরে ফেললে তিনি পালানোর চেষ্টা করেন। তবে এলাকাবাসী তাকে ধরে গণধোলাই দেয় এবং পরে পুলিশকে খবর দেয়।
পুলিশের বক্তব্য
জয়পুরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুর আলম জানান, তৌফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে সদর থানায় ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে একাধিক মামলা রয়েছে। আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হবে।
এদিকে, জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ওসি মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, "তৌফিকুল ইসলামকে **বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হত্যা ও বিস্ফোরক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।"
অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড
স্থানীয় বিএনপি নেতা দাদে এলাহী লাবলু অভিযোগ করেন, "তৌফিকুল ইসলাম ছাত্রলীগের আহ্বায়ক হয়ে ভোট ডাকাতির মাধ্যমে কালাই পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। তিনি টেন্ডারবাজি, পারিবারিক দ্বন্দ্বে মধ্যস্থতা করে অর্থ আদায়, ধর্ষণের বিচার বানিজ্যসহ বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।"
স্থানীয়রা আরও জানান, তার ব্যাংক হিসাবে কোটি টাকার বেশি সম্পদ রয়েছে, যার প্রকৃত উৎস অজানা।
ছাত্রলীগ নিষিদ্ধ, তৌফিকুলের সংশ্লিষ্টতা
সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকার ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। তৌফিকুল ইসলাম এই নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনটির কালাই উপজেলা শাখার আহ্বায়ক ছিলেন।
উপসংহার
তৌফিকুল ইসলামের গ্রেপ্তারের খবরে স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা ও তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

0 Comments