Ticker

6/recent/ticker-posts

Ad Code

রমজানে মাত্র ২ টাকা লাভে ন্যায্যমূল্যের বাজার চালু করল একদল তরুণ


 

রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণত বেড়ে যায়, যা সাধারণ মানুষের জন্য বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে। কিন্তু ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার একদল তরুণ এই চিত্র বদলাতে এগিয়ে এসেছেন। তারা চালু করেছেন 'চমক বাজার' নামে একটি বিশেষ বাজার, যেখানে প্রতিটি পণ্য মাত্র ২ টাকা লাভে বিক্রি করা হচ্ছে। তাদের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।


বাজারের উদ্দেশ্য ও তরুণদের প্রচেষ্টা


এই তরুণদের মূল উদ্দেশ্য হলো বাজারের সিন্ডিকেট ভেঙে সাধারণ মানুষের হাতে ন্যায্যমূল্যে পণ্য পৌঁছে দেওয়া। বর্তমান বাজারে চাল, ডাল, তেল, চিনি, পেঁয়াজসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম লাগামহীনভাবে বেড়ে চলেছে। ফলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষকে অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হচ্ছে।


এই বিষয়টি মাথায় রেখেই কসবার কিছু তরুণ মিলে ‘চমক বাজার’ চালু করেন, যেখানে তারা মাত্র ২ টাকা লাভ রেখে পণ্য বিক্রি করছেন। অর্থাৎ তারা ব্যবসার জন্য নয়, বরং সাধারণ মানুষকে সহায়তা করতেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।


বাজারে কী কী পণ্য পাওয়া যাচ্ছে?


‘চমক বাজার’-এ নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্য পাওয়া যাচ্ছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—


পেঁয়াজ: ৩৩ টাকা কেজি (বাজারে ৪৫-৫০ টাকা)


ছোলা: ৯০ টাকা কেজি (বাজারে ১১০-১২০ টাকা)


চিনি: ১২০ টাকা কেজি (বাজারে ১৪০-১৫০ টাকা)


ভোজ্যতেল: বাজার মূল্যের চেয়ে কম দামে



এই বাজারের প্রথম দিনেই ছোলা সম্পূর্ণ বিক্রি হয়ে যায়, যা প্রমাণ করে যে, সাধারণ মানুষের মাঝে এটি কতটা জনপ্রিয়তা পেয়েছে।


ক্রেতাদের প্রতিক্রিয়া


বাজারে আসা ক্রেতারা বলছেন, এই উদ্যোগ তাদের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ। রমজানে যখন বাজারে পণ্যের দাম বেড়ে যায়, তখন এই বাজার স্বল্প আয়ের মানুষদের জন্য বড় সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। একজন ক্রেতা বলেন,


"এখনকার বাজারের অবস্থা খুবই খারাপ। যেখানে খুচরা বাজারে ১২০ টাকা কেজি ছোলা কিনতে হয়, সেখানে এখানে ৯০ টাকায় পাচ্ছি। এতে আমাদের পরিবারের খরচ অনেকটাই বাঁচছে।"


আরেকজন জানান,


"এমন উদ্যোগ সারা দেশে নেয়া উচিত। তাহলে রমজানে সাধারণ মানুষ একটু স্বস্তিতে কেনাকাটা করতে পারবে।"


তরুণদের এই উদ্যোগ কতদিন চলবে?


তরুণ উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, এই ন্যায্যমূল্যের বাজার পুরো রমজান মাস জুড়ে চালু থাকবে এবং ঈদুল ফিতরের আগের রাত পর্যন্ত চলবে। তারা আশা করছেন, এর মাধ্যমে অন্তত কিছু সংখ্যক মানুষের কষ্ট লাঘব করা সম্ভব হবে।


এমন উদ্যোগ আরও ছড়িয়ে পড়ুক


এই ধরনের সামাজিক উদ্যোগ বাংলাদেশে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে, বাজারে যখন দাম বেড়ে যায়, তখন সাধারণ মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়ে। কসবার এই তরুণদের উদ্যোগ দেখিয়ে দিয়েছে যে, সঠিক পরিকল্পনা ও সদিচ্ছা থাকলে ন্যায্যমূল্যের বাজার পরিচালনা করা সম্ভব।


সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো যদি এই ধরনের উদ্যোগে সহযোগিতা করে, তাহলে আরও বড় পরিসরে ন্যায্যমূল্যের বাজার চালু করা সম্ভব হবে। এতে সাধারণ মানুষ উপকৃত হবে এবং বাজারের সিন্ডিকেটের চাপ কিছুটা হলেও কমবে।


উপসংহার


রমজানে যখন পণ্যের দাম বাড়ে, তখন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবার একদল তরুণ মাত্র ২ টাকা লাভে ন্যায্যমূল্যের বাজার চালু করে প্রমাণ করেছেন যে, ইচ্ছা থাকলে পরিবর্তন আনা সম্ভব। তাদের এই মানবিক উদ্যোগ সমাজের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

Post a Comment

0 Comments