Ticker

6/recent/ticker-posts

Ad Code

আওয়ামী লীগ নেতাকে থানা থেকে ছাড়াতে বিএনপি নেতার তদবির


 


বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্রধান দল—আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরোধিতার ঘটনা নতুন কিছু নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন এক চিত্র—আওয়ামী লীগ নেতাকে পুলিশের হাত থেকে মুক্ত করতে বিএনপি নেতাদের তদবির!


আড়াইহাজারে বিএনপি নেতার তদবির


নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে সম্প্রতি ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা লাক মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে হামলা, ভাঙচুর ও নাশকতার অভিযোগ আনা হয়। তবে চমকপ্রদ বিষয় হলো, তাকে মুক্ত করতে থানায় তদবির করেন স্থানীয় বিএনপি নেতারা।


প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বিএনপি নেতা আবিদ হাসান ওরফে জজ মিয়া থানায় গিয়ে পুলিশের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং একপর্যায়ে তাকেও আটক করা হয়। পরে উভয় পক্ষের সমঝোতায় তিনি ছাড়া পান।


শিবপুরেও একই ঘটনা


নরসিংদীর শিবপুরে জয়নগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা নাদিম সরকার গ্রেপ্তার হলে, তাকেও মুক্ত করতে বিএনপি নেতাদের থানায় যাওয়া নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। বিএনপি নেতারা তার পক্ষে সুপারিশ করতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন, যা স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহলের সৃষ্টি করে।


রাজনৈতিক সমীকরণের পরিবর্তন?


বিএনপি নেতাদের এমন ভূমিকা নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, স্থানীয় রাজনীতিতে অনেক ক্ষেত্রেই ব্যক্তিগত স্বার্থ দলীয় মতাদর্শকে ছাড়িয়ে যায়। দীর্ঘদিন একসঙ্গে রাজনীতি করা বা আত্মীয়তার সম্পর্কের কারণেও প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর নেতারা একে অপরকে সহায়তা করতে পারেন।


স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া


এ ধরনের ঘটনার পর সাধারণ জনগণের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ বলছেন, এটি রাজনৈতিক বিভাজন কমার ইঙ্গিত, আবার কেউ মনে করছেন, এটি কেবল সুবিধাবাদী রাজনীতির একটি উদাহরণ।


শেষ কথা


বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রতিপক্ষের জন্য তদবির করা সাধারণ বিষয় নয়। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো প্রমাণ করছে, রাজনীতিতে কৌশলগত সম্পর্ক ও স্বার্থ কখনো কখনো মতাদর্শের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। সময়ই বলে দেবে, এ ধরনের ঘটনা সাময়িক ব্যতিক্রম নাকি ভবিষ্যতে রাজনীতির ধারায় নতুন কোনো পরিবর্তন আনবে।

Post a Comment

0 Comments