![]() |
পিকচার এডিট, এ আই |
রমজান মাস মুসলমানদের জন্য এক বিশেষ বরকতময় সময়। এই মাসে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতের মধ্যে অন্যতম হলো তারাবির নামাজ। এটি একটি সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ ইবাদত, যা এশার নামাজের পর আদায় করা হয়।
তারাবির নামাজ পড়ার নিয়ম
তারাবির নামাজ দুই রাকাত করে পড়া হয়। সাধারণত ২০ রাকাত পড়া হয়, তবে ৮ রাকাত পড়ারও প্রচলন রয়েছে।
তারাবির নামাজের নিয়ম ধাপে ধাপে:
1. নিয়ত করা:
উচ্চারণ:
“নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাহি তা'আলা রাকআতাইনি সুন্নাতাত তারাবিহি, মুখতাদিয়ান লিহাযাল ইমাম, আল্লাহু আকবার।”
বাংলা অর্থ: আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য তারাবির নামাজ পড়ার নিয়ত করলাম, আল্লাহু আকবার।
2. এশার ফরজ ও সুন্নত নামাজ আদায় করা
3. তারাবি শুরু করা:
দুই রাকাত করে পড়তে হবে
চার রাকাত পর কিছু সময় বসে বিশ্রাম নেওয়া হয় (তাশবিহ বলা হয়)
4. তারাবি শেষে বিতর নামাজ আদায় করা
তারাবির নামাজের দোয়া
চার রাকাত পর সাধারণত নিচের দোয়া পড়া হয়:
আরবি:
سُبْحَانَ ذِي الْمُلْكِ وَالْمَلَكُوتِ سُبْحَانَ ذِي الْعِزَّةِ وَالْعَظْمَةِ وَالْهَيْبَةِ وَالْقُدْرَةِ وَالْكِبْرِيَاءِ وَالْجَبَرُوتِ سُبْحَانَ الْمَلِكِ الْحَيِّ الَّذِي لَا يَنَامُ وَلَا يَمُوتُ اَبَدًا اَبَدَ سُبُّوحٌ قُدُّوسٌ رَبُّنَا وَرَبُّ الْمَلَائِكَةِ وَالرُّوحِ
বাংলা উচ্চারণ:
"সুবহানা জিল মুলকি ওয়াল মালাকুতি, সুবহানা জিল ইয্যাতি ওয়াল আযমাতি ওয়াল হাইবাতি ওয়াল কুদরাতি ওয়াল কিবরিয়ায়ি ওয়াল যাবারুত। সুবহানাল মালিকিল হাইয়্যিল্লাজি লা ইয়ানামু ওয়ালা ইয়ামুতু আবাদান আবাদা; সুব্বুহুন কুদ্দুছুন রাব্বুনা ওয়া রাব্বুল মালাইকাতি ওয়ার রূহ।"
তারাবির নামাজের ফজিলত
১. গুনাহ মাফ হয়:
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
“যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও সওয়াবের আশায় তারাবির নামাজ পড়বে, তার পূর্বের সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।” (সহিহ বুখারি)
২. কিয়ামুল লাইলের মর্যাদা:
তারাবি নামাজ রাতের নামাজ বা কিয়ামুল লাইলের অন্তর্ভুক্ত, যা বান্দাকে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের সুযোগ দেয়।
৩. কবরের আযাব থেকে মুক্তি:
এই নামাজ পড়লে কবরের আযাব থেকে বাঁচার একটি মাধ্যম হিসেবে কাজ করে।
৪. লাইলাতুল কদরের পুরস্কার:
তারাবির মাধ্যমে মুসলিমরা রমজানের শেষ দশকের লাইলাতুল কদর পাওয়ার সুযোগ পায়।
উপসংহার
রমজান মাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত তারাবির নামাজ। এটি কেবলমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য পড়া উচিত। এর মাধ্যমে গুনাহ মাফ পাওয়া যায় এবং জান্নাতের পথে এক ধাপ এগিয়ে যাওয়া সম্ভব। তাই আমাদের সবার উচিত এই নামাজ গুরুত্বের সাথে আদায় করা।

0 Comments