কক্সবাজারের টেকনাফে নাফ নদীতে মাছ ধরার সময় মিয়ানমারের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির হাতে আটক হওয়া ২৯ জন জেলেকে ফেরত এনেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। ফেরত আসা জেলেদের মধ্যে ১৫ জন বাংলাদেশি এবং ১৪ জন রোহিঙ্গা রয়েছেন।
ঘটনার পটভূমি
সম্প্রতি নাফ নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে একাধিকবার জেলেদের অপহরণের শিকার হতে হয়েছে। এর আগে, ২২ ফেব্রুয়ারি টেকনাফ জেটি ঘাট এলাকা থেকে চারটি ট্রলারসহ ১৯ জন জেলেকে ধরে নিয়ে যায় আরাকান আর্মি। এছাড়া, ১০ ফেব্রুয়ারি নাফ নদীর মোহনা সংলগ্ন এলাকা থেকে দুটি ট্রলারসহ চারজনকে আটক করা হয়।
বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাতের ফলে সীমান্ত এলাকায় অস্থিরতা বিরাজ করছে। এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে আরাকান আর্মির সদস্যরা নাফ নদীতে মাছ ধরতে যাওয়া জেলেদের অপহরণ করছিল।
জেলেদের ফেরত আনার প্রক্রিয়া
টেকনাফ-২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আশিকুর রহমান জানান, অপহৃত জেলেদের উদ্ধারে বিজিবি আরাকান আর্মির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ শুরু করে। কূটনৈতিক ও সামরিক পর্যায়ের আলোচনা শেষে বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় টেকনাফ পৌরসভার চৌধুরীপাড়া সংলগ্ন জেটি ঘাটে জেলেদের হস্তান্তর করা হয়।
জেলেদের অভিজ্ঞতা
ফেরত আসা জেলেদের মধ্যে একজন, কবির আহমেদ, জানান যে তারা মাছ শিকার করে ফিরছিলেন, তখন হঠাৎ করে আরাকান আর্মির সদস্যরা তাদের নৌকা থামিয়ে আটক করে। তারা দাবি করে, বাংলাদেশি জেলেরা অবৈধভাবে মিয়ানমারের জলসীমায় প্রবেশ করেছে। পরবর্তীতে তাদের কাছ থেকে জোরপূর্বক টিপসই নেওয়া হয় এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ না করার শর্তে মুক্তি দেওয়া হয়।
পরবর্তী ব্যবস্থা
ফেরত আসা জেলেদের তথ্য সংগ্রহের পর তাদেরকে টেকনাফ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে, যাতে তারা নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরে যেতে পারেন।
সীমান্ত নিরাপত্তার জোরদার আহ্বান
এই ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে বিজিবি ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বাহিনী সীমান্তে নজরদারি আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমান্ত অঞ্চলে নিয়মিত টহল ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ানো জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপহরণের ঘটনা না ঘটে।
এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর করা দরকার বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
Bangla n media 24

0 Comments