![]() |
| বিদেশে পলাতকদের পাসপোর্ট বাতিল করা হবে |
বাংলাদেশ সরকার বিদেশে পলাতক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে। সম্প্রতি শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, যেসব ব্যক্তি দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিপুল পরিমাণ ঋণ নিয়ে বিদেশে পলাতক রয়েছেন, তাদের পাসপোর্ট প্রয়োজনে বাতিল করা হবে।
পলাতকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা
ড. সাখাওয়াত হোসেনের মতে, দেশের বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার ঋণ নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে শুধুমাত্র এক প্রতিষ্ঠানের নামেই রয়েছে ২৮ হাজার কোটি টাকার ঋণ। এছাড়া, অস্তিত্বহীন ১৬টি প্রতিষ্ঠানের নামে নেওয়া হয়েছে আরও ১২ হাজার কোটি টাকা। এসব অর্থ লোপাটের সঙ্গে যারা জড়িত, তারা বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করছেন এবং আইনের মুখোমুখি হতে চাইছেন না।
সরকার তাদের দেশে ফেরত আনতে কাজ করছে। কিন্তু যদি তারা দেশে ফিরে না আসেন, তবে তাদের পাসপোর্ট বাতিল করে বিদেশে আটকা পড়ার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান
এছাড়া, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিশেষ অভিযান ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ চলমান রয়েছে। ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই অভিযানে ১১,৩১৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযানের মূল লক্ষ্য হলো, যারা অপরাধমূলক কার্যক্রম চালিয়ে বিদেশে পালিয়ে যেতে চায়, তাদের আটক করা।
পুলিশ সদস্যদের পাসপোর্টও বাতিল হচ্ছে
সরকার শুধু ঋণ খেলাপিদেরই নয়, কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা পলাতক পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে আলাদা টিম গঠন করা হয়েছে এবং তারা যেন বিদেশে পালাতে না পারেন, সেজন্য তাদের সব ধরনের পাসপোর্ট বাতিল করা হচ্ছে।
পাসপোর্ট ভেরিফিকেশন সহজতর করার সিদ্ধান্ত
একই সঙ্গে, সম্প্রতি সরকার পাসপোর্ট ইস্যুতে পুলিশ ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া বাতিল করেছে। এর ফলে সাধারণ নাগরিকদের পাসপোর্ট পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ হবে। তবে, অপরাধীদের বিষয়ে বিশেষ নজরদারি থাকবে, যাতে তারা বিদেশে পালিয়ে যেতে না পারে।
উপসংহার
সরকারের এই পদক্ষেপ দেশের আর্থিক খাতকে সুরক্ষিত রাখার পাশাপাশি অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বিশেষ করে, ঋণ খেলাপিদের বিরুদ্ধে এই কঠোর অবস্থান ভবিষ্যতে আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সাহায্য করবে।

0 Comments